![]() |
| গল্পের নামঃ #কুহেলি |
লেখিকার নামঃ কৃষ্ণচূড়া লেখিকা (ছদ্ননাম)
#পর্ব২
///////////////////////////////////////////////////
আজমাল তখন থেকে আবেশকে ডেকে যাচ্ছে কিন্তু সে তো আরাম করে ঘুমাচ্ছে।
আজমালঃ আবেশ, উঠ বাবা। ভার্সিটির সময় হয়ে গেছে।উঠ।
আবেশঃ ওফ, মামা। দিলে তো আমার সাধের ঘুমের বারোটা বাজিয়ে। নিচে যাও। আমি তৈরি হয়ে আসছি।
আবেশ উঠে ওয়াসরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে। আজমালও চলে যায়। আবেশ তৈরি হয়ে নিচে নামে। আবেশ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে হাতে ঘড়ি পড়ছে।আজমাল খাবার টেবিলে বসে আছে আর রহিমা চাচী খাবার বেড়ে দিচ্ছে।
চাচীঃ আবেশ,বাবা। বসো, তোমার খাবার আনতাছি।
আবেশ বসলে চাচী ওকে পাউরুটি আর ডিম সিদ্ধ দেয়।
আজমালঃ কি করে যে এসব খাস? খোদা জানে।
আবেশঃ দুই দিন পর পর হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছে নেই।
আজমাল চুপ করে গেলো। এই ছেলের সাথে কথায় পারবে না। আবেশ ওর বাইক নিয়ে ভার্সিটি চলে গেলো। আজমাল পরে যাবে। ভার্সিটির ভিতর বাইক নিয়ে ডুকলো আবেশ। বাইক পার্ক করে ক্যাম্পাসে বন্ধুদের কাছে চলে গেলো।
ঈশানঃ আরে, আমাদের হিরো এসে গেছে। আজ এতো তাড়াতাড়ি?
রিমাঃ আজ মহারাজের ঘুম এতো তাড়াতাড়ি ভাঙলো কি করে?
আবেশঃ মামা ঘুমের বারোটা বাজিয়েছে তাই।
লিজাঃ আবি, চলো না আজকে কোথাও ঘুরতে যাই।
আবেশরা পিছনে ঘুরে লিজাকে দেখলো। রিমার গা-পিত্তি জ্বলে গেলো। এতো ন্যাকা কেউ কি করে হতে পারে? ভালোই তো আবেশ, ঈশান আর ওর বন্ধুত্ব ছিলো। মাঝখানে থেকে এই লিজা উড়ে এসে জুড়ে বসলো।
আবেশঃ প্রথমত, আমার নাম আবেশ, আবি নয়। দ্বিতীয়ত, আমার কাছে ফালতু সময় নেই। আর এই ন্যাকামি আমার সামনে করতে আসিস না।
সামিঃ আরে লিজা তো মজা করছিলো। ওর কথা ধরিস না।
আদিলঃ ওর কথা ছাড়। আজকে নতুন স্টুডেন্টদের সাথে একটু মজা করলে কেমন হয়?
রিমা ঈশানের কানে ফিসফিসিয়ে বলে-
রিমাঃ এদেরই কমতি ছিলো।সেটাও হয়ে গেলো।
ঈশান রিমাকে ইশারায় কিছু বলতে না বলে। লিজা তো আদিলের কথায় সহমত হলো সাথে সামিও। কিন্তু আবেশ এসব করতে মানা করে দেয়।কিন্তু ওরা তো শোনার পাত্রী না তাই ওরা ওদের কাজ করবে।লিজা, ঈশান, সামি,রিমা, আদিল আর আবেশ বসে আছে। আবেশ ফোনে গেমস খেলছে।ঈশান আর রিমা গল্প করছে। লিজা, সামি আর আদিল গেটের দিকে তাকিয়ে সবাইকে দেখছে। কিন্তু কাউকে মনে ধরছে না। হঠাৎ একটা কালে গাড়ি গেটের সামনে এসে থামে।
লিজাঃ এটা আবার কার গাড়ি? বেশ দামী মনে হচ্ছে।
সবাই তাকিয়ে আছে এমনকি আবেশও। তবে অল্প সময়ের জন্য। গাড়ি থেকে কালো জিন্স,লং কুর্তি পড়া একটা মেয়ে বের হয়। মেয়েটার মুখে গম্ভীরতার ছাপ স্পষ্ট। ওকে দেখেই লিজা, সামি আর আদিলের মাথায় শয়তানি বুদ্ধি আসলো। একে অপরের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।মেয়েটা ভেতরে আসলে লিজা ওকে ডাক দেয়।ও ওখানে যায়। মেয়েটি একবার আবেশের দিকে তাকালো। কিন্তু চোখ ত্রিশ সেকেন্ডের বেশি আবেশের দিকে রাখলো না।
মেয়েটিঃ হুম। কিন্তু আমাকে এখানে ডাকার কারণ কি?
সামিঃ প্রথমত, ভার্সিটিতে এসে সিনিয়রদের সম্মান না জানিয়ে কেউ ক্লাসে যায় না। দ্বিতীয়ত, তোমার নাম বলো।
মেয়েটিঃ অপাত্রে দান আমি করি না। সম্মান অর্জন করুন তারপর ভেবে দেখবো করা যায় কি না?
মেয়েটির কথা শুনে লিজার রাগ উঠে যায়।
লিজাঃ বড়দের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় জানো না? অসভ্য মেয়ে। কোথা থেকে যে এরা চলে আসে?
মেয়েটিঃ বড়দের যদি সামান্য বোধ-বুদ্ধি না থাকে তাহলে তো এমন হবেই।আর আমি এরকমই। সোজা কথা সোজাভাবে বলতেই আমি পছন্দ করি।
ঈশান আর রিমার বেশ ভালো লাগছে। লিজা, সামি চর আদিল রাগে ফুসছে। আবেশেরও রাগ হলো।
আবেশঃ এই মেয়ে, কিভাবে কথা বলছো তুমি? তোমার পরিবার তোমাকে এই শিক্ষা দিয়েছে?
ঈশান আর রিমার বেশ রাগ হলো আবেশের উপর। মেয়েটিও ভাবতে পারে নি আবেশ পরিবার তুলে কথা বলবে। তবে এর থেকে বেশি ওর কাছে কি বা আশা করা যায়। আবেশ কথা বলাতে লিজা তো আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেছে।
লিজাঃ ঠিকই, বলেছো আবি। বড় বড় গাড়ি চড়লেই বড় হওয়া যায় না।
মেয়েটি লিজার কথাকে পাত্তা না দিয়ে আবেশের সামনে দাঁড়ায়। আবেশের মুখে প্রশ্নসূচক চাহনি।
মেয়েটিঃ আমার জীবনে আমি সবচেয়ে বেশি ঘৃণা আমি আপনাকে করি আবেশ চৌধুরী। আজকের পর থেকে সেই ঘৃণার পাহাড় এতো উঁচু হয়ে গেলো, আপনি চাইলেও সে পাহাড় ভাঙতে পারবেন না।
কেনো জানি না আবেশের কথাগুলো মনে আঘাত করলো৷ যেনো কোনো আপন কেউ কথাগুলো ওকে বলছে। মেয়েটি লিজাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে।
মেয়েটিঃ লোকে ঠিকই বলে, মানুষের পোশাক দেখে তার ব্যবহার আর মানসিকতা বুঝা যায়।
লিজা রেগে আঙুল উঠিয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগে মেয়েটি ওর আঙুল ধরে ঘুড়িয়ে ফেলে।
মেয়েটিঃ আহিয়া চৌধুরী-র সামনে আঙুল তুলে কথা বলার মতো সাহস কারো নেই।
"আহিয়া চৌধুরী " নামটা শুনে আবেশ, রিমা ও ঈশান চমকে উঠে। আবেশ ওর মুখের দিকে তাকায়।
আবেশঃ আভ,
আবেশকে হাত দেখিয়ে থামিয়ে দেয় আহিয়া।
আহিয়াঃ নিজের মুখকে সংযত করুন আবেশ চৌধুরী। আর আপনি(লিজা) আমার সাথে লাগতে আসবেন না। জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। কারণ, আমি জ্বলন্ত আগুন। যেই ছুবে সেই মরবে।
সামিঃ তুমি জানো, তুমি কাকে কি বলছো?
আহিয়াঃ প্রয়োজনবোধ করছি না। যেই হোক, অত্যন্ত বাজে প্রকৃতির একটা মেয়ে। বাবার টাকায় ফুটানি করা যার স্বভাব। আমি এসবের ধার ধারি না।
আদিল সামিকে থামিয়ে লিজাকে নিয়ে ওখান থেকে চলে গেলো। আভনিও চলে গেলো।
রিমাঃ আভনি দেশে এসেছে বলিসনি কেনো?
আবেশঃ কতো বড় হয়ে গেছে। ও যে দেশে আসবে তা আমি নিজেও জানতাম না। বড্ড বেশি ঘৃণা করে আমায়। তাই জানায়নি আমাকে ওর দেশে আসার কথা।
ঈশানঃ স্যারও জানেন না?
আবেশঃ জানি না। মামা হয়তো জানতো আবার না। আভু কখন কি করে বা করবে কাউকে সে বিষয়ে জানায় না।
রিমাঃ ও তোকে ঘৃণা করে না। তোর উপর ওর অভিমান হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে সেটা বেড়ে গেছে।
ঈশানঃ আর অবিমান কিভাবে ভাঙাতে হবে? সেটা নিশ্চয়ই আমাদের বলে দিতে হবে না। চল তাহলে, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে। পরে এই বিষয়ে কথা বলিস মামার সাথে।
আবেশ ক্লাস করতে চলে গেলেও মনটা আভনির কাছে পড়ে আছে। ওরা চলে গেলে তিন জন ছেলে আর দুই জন মেয়ে আসলো ওখানে।
জিতুঃ আরে কে ছিলো এটা? নামটা যেনো কি বললো?
তূর্যঃ আহিয়া চৌধুরী। কতো বড় সাহস আমার আপুকে অপমান করলে।একে তো ছাড়বো না। কতো বড় সাহস।
জিনিঃ লিজা আপু তো কান্না করেই যাচ্ছে। সামি ভাইয়া আর ভাইয়া তে কান্না থামাতেই পারছে না।
পিংকিঃ এই দুই দিনের মেয়েটাকে একটা শিক্ষা দিতে হবে।
সিহাবঃ যাই কর, সাবধানে করতে হবে। যাতে ওই আহিয়া বুঝতে পারে ও কার সাথে পাঙ্গা নিয়েছে।
সবাই সিহাবের সাথে সহমত প্রকাশ করলো।
লিজা আর তূর্য বড়লোক বাবার বিগড়ে যাওয়া ছেলে-মেয়ে।লিজার বাবা ব্যবসায়ী। তার বন্ধু হচ্ছে আদিল আর সামি এর বাবা। আদিল, সামি আর জিনি তিন ভাই-বোন। জিনি তূর্যর সাথে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। লিজারা অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। আর পিংকি, সিহাব আর জিতু তূর্যর বন্ধু। তূর্যর কথায় উঠে বসে। আভনি অনলাইনে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের জন্য এডমিশন নিয়ে রেখেছিলো। আজকে দেশে ফিরেছে আর আজকেই কাগজপত্র জমা দিতে ভার্সিটি আসে। আর আজকেই এতো কান্ড হয়ে গেলো।
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
( আসসালামু আলাইকুম,, আশা করি গল্পটা আপনাদের ভালো লাগবে।)
