Type Here to Get Search Results !

গল্পের নামঃ কুহেলি

 

কুহেলি

গল্পের নামঃ #কুহেলি

লেখিকার নামঃ কৃষ্ণচূড়া লেখিকা (ছদ্ননাম)

#পর্ব১ 

,,,,,,,,,,,,

আট বছরের আভনি সাদা রংয়ের গাউন পড়ে তৈরি হয়ে চারিদিকে ঘুরে নিজের মা কে দেখাচ্ছে। আভনির কান্ডে ওর মা আঁচল হাসছে। তখন আভনির ভাই আবেশ ভেতরে আসে। আবেশের বয়স দশ বছর। আভনির কান্ড দেখে আবেশও হেসে দেয়। আবেশকে দেখে আভনি দৌড়ে ওর কাছে চলে যায়।আঁচল ওদের দেখে মুচকি হাসে।

আবেশঃ আভু, কি করছিলি তুই? ওখানে তো তোর সব বন্ধুরা চলে এসেছে। চল, আমরা নিচে যাই।

আভনিঃ ভাইয়া, দাঁড়াও। মাম্মাম কে বলে আসি।

আভনি দৌড়ে আঁচলের গালে একটা চুমু দিয়ে আবেশের সাথে নাচতে নাচতে নিচে চলে যায় ওর বন্ধুদের কাছে।

আভনির পুরো নাম আহিয়া চৌধুরী। ডাকনাম আভনি। ওর দুই বছরের বড় আবেশ চৌধুরী। দুই ভাই-বোন একে অপরের প্রাণ। আর ওরা দুইজন ওদের মা-বাবা মানে আঁচল চৌধুরী আর কুঞ্জন চৌধুরী-র প্রাণ। আজকে আভনির জন্মদিন। তাই সব আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই এসেছে।

আঁচল কুঞ্জনকে ফোন করে। কুঞ্জন সাথে সাথে ধরে ফেলে। 

আঁচলঃ আপনার আসতে আর কতোক্ষণ লাগবে?সবাই এসে পড়েছে। সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

কুঞ্জনঃ আমি তো এসে পড়েছি। নিচে ড্রয়িংরুমে আছি। তুমি নিচে এসো।

আঁচলঃ ওহ আচ্ছা। আমি আসছি।

কুঞ্জন ফোনটা কেটে দেয়। সবার সাথে গল্পে মেতে উঠে। আভনি ওর বাবার কাছে গিয়ে ওর মা কোথায় আছে? জানতে চায়। কুঞ্জন আভনিকে ওর পাশে বসায়।

কুঞ্জনঃ উপরে আছে। এখনি চলে আসবে।তা মামনি, কেক পছন্দ হয়েছে?

আভনিঃ পাপা, অনেক পছন্দ হয়েছে। জানো পাপা, ভাইয়া আমাকে চকলেট দিয়েছে।

কুঞ্জনঃ তাই। তাহলে তো ভাইয়াকে একটা ধন্যবাদ দিতে হয়। তা তুমি ভাইয়াকে ধন্যবাদ বলেছো?

আভনি "না" বলে। তখনি ওখানে আবেশ আসে।

আবেশঃ ধন্যবাদের প্রয়োজন নেই,পাপা। শুধু আভু সবসময় যেনো ভালো থাকে।

কুঞ্জনঃ আমার ছেলেটা তো দেখি বড় হয়ে গেছে।

আজমালঃ আমার কথা ভুলে গেলে, আভু মামনি।

পিছন থেকে কারো কন্ঠ পেয়ে আভনি তাকিয়ে দেখে ওর মামা আজমাল হোসেন। আভনি আর আবেশ ওনাকে দেখা মাত্র দৌড়ে ওনার কাছে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো।

আভনিঃ মামা, এতো দেড়ি করলে কেনো? আমি কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।

আবেশঃ মামা, চলো আমার বন্ধুদের সাথে তোমার দেখা করাবো। আজ আমরা খুব মজা করবো।

কুঞ্জনঃ আস্তে আস্তে, তোমাদের মামা মাত্র এসেছে। একটু বসতে দাও আগে। বসো, তুমি।

আজমালঃ কেমন আছেন, দুলাভাই? সব কুশল তো?

কুঞ্জনঃ আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।তোমার খবর কি?

আজমালঃ এই তো ভালো। আপু কোথায়? দেখছি না তো।

কুঞ্জনঃ আভু, আবেশ তোমাদের মাম্মাম কে গিয়ে ডেকে আনো। বলো মামা এসেছে।

আজমালঃ তা দুলাভাই সবাই এসে গেছে?

কুঞ্জনঃ হ্যা, সবাই এসে গেছে। তার আগে এটা বলো তুমি কি বিয়ে-শাদি করবে না?

আজমালঃ না, দুলাভাই। আপনি আমার বোনকে সামলাতে পারছেন কিন্তু আআমি পারবো না।

কুঞ্জন হেসে দেয়। সাথে আজমালও হেসে দেয়।

কুঞ্জনঃ তো কি করবে? বিয়ে তোমার দ্বারা হবে না।

আজমালঃ ভার্সিটির প্রফেসর আছি। আজীবন তাই থাকবো।

ওরা সবাই গল্প করছে। আভনি আর আবেশ ওদের মা কে ডাকতে উপরে যাবে তখন আবেশকে ওর বন্ধুরা ডাক দেয়।

আবেশঃ আভু, তুই মাম্মামকে ডেকে নিয়ে আয়।

আভনি মাথা নাড়ালো। আবেশ ওর বন্ধুদের কাছে চলে গেলো। আভনি সিঁড়ির কাছে গেলে তখনি উপর থেকে আঁচলের নিথর দেহটা নীচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আভনির পুরো পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়। আভনি জোরে চিৎকার করে।

আভনিঃ মাম্মাম, এই মাম্মাম উঠো। মাম্মাম, উঠো।

আভনি কাঁদতে শুরু করলো। আভনি আঁচলের হাতের মুঠোয় একটি আংটি পেলো।ততোক্ষণে ওখানে সবাই চলে আসে। আবেশ তো রিতীমতো নিজের বাক-শক্তি হারিয়ে ফেলছে যেনো। আভনি আঁচলের পাশে বসে ওকে ডেকে যাচ্ছে। কিন্তু আঁচলের কোনো সাড়াশব্দ নেই। কুঞ্জনের হাত-পা কাঁপছে। আজমাল ওর বোনের পাল্স চেক করে। ফলাফল শূণ্য। আঁচল মারা গেছে। আবেশ ঊপ করে নীচে বসে পড়ে। পাগলের মতো আঁচলকে ডাকতে থাকে। আভনি এক সময় কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সবাই মিলে আভনিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলো।

তিন দিন পর,

আভনির জ্ঞান ফিরে। জ্ঞান ফিরার পর চারিদিকে তাকিয়ে দেখে। পাশের একটা টেবিলে ওর ঘড়ি আর ওই আংটিটা আছে। আভনির জ্ঞান ফিরেছে দেখে নার্স ডাক্তারকে জানায়।

ডাক্তার আবেশ, কুঞ্জন আর আজমালের সাথে কথা বলছিলো।নার্স এসে আভনির জ্ঞান ফিরেছে বললে সবাই আভনির কাছে যায়। ওখানে গিয়ে দেখে আভনি কান্না করছে। আবেশ আভনির কাছে গেলে আভনি ওর ভাইকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে। আভনি ফুপিয়ে কান্না করছে।

আভনিঃ ভাইয়া। মাম্মামের কাছে যাবো। এখানে আমার ভালো লাগছে না।

আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া গেলো না। আভনি আবেশের বুকে আবার জ্ঞান হারিয়েছে।

আবেশঃ এই আভু, উঠ। পাপা, আভু উঠছে না কেনো?

ডাক্তারঃ ওর জন্য এই আঘাতটা মেনে নেওয়া কষ্টকর। চিন্তা করবেন না। তবে ওকে এখানে রাখলে আর এই অবস্থা থাকলে ওর মানসিক সমস্যা হতে পারে।তাই যূি আমার কথা শুনেন তাহলে বলবো আপনারা ওকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দিন।

ডাক্তার চলে গেলেন। আবেশ আভনিকে শুইয়ে দিলে নার্স ওকে ঘুমের ইনজেকশন দেয়। আগামী চার-পাঁচ ঘন্টা আভনি গভীর ঘুমে থাকবে। আবেশ ওর বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। 

কুঞ্জনঃ কি হয়ে গেলো? কি করবো আমি?

আজমালঃ দুলাভাই, আভনি আর আবেশের মুখের দিকে তাকিয়ে নতুন করে সবটা শুরু করেন।  

কুঞ্জন চুপচাপ কিছুক্ষণ বসে থাকলো।

কুঞ্জনঃ ঠিকই বলেছো তুমি। আভনি আর আবেশকে নিয়ে আমি কানাডায় চলে যাবো।

আজমালঃ তাই করতে হবে। আমি সব জিনিসপত্র আর টিকিটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। 

আবেশ আভনির হাত নিজের হাতের মুঠোয় নেয়।

আবেশঃ পাপা,আমি তোমাদের সাথে যাবো না। আমি এখানে থাকবো। আর আমাকে যাওয়ার জন্য কোনো প্রকার জোর করো না। আমি পারবো না।

কুঞ্জনঃ আভনি যে তোমাকে ছাড়া যাবে না। একটু বোঝার চেষ্টা করো।

আজমালঃ দুলাভাই, আবেশ যখন যেতে চাইছে না। তহালে বরং ও আমার সাথে থাকুক। ওর উপর দিয়ে তো কম ঝড় গেলো না। জোর করার দরকার নেই।

কুঞ্জনও রাজি হয়ে গেলো।নিজের স্ত্রীর অকাল মৃত্যু আর ছেলে-মেয়ের এই অবস্থা ওর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। ওর সবটা ওলোট-পালোট হয়ে গেলো।

দুই দিন পর,

আভনি আগের থেকে কিছুটা সুস্থ। আবেশ সবসময় আভনির খেয়াল রেখেছে।

কুঞ্জনঃ এবার আমাদের যেতে হবে, আভনি।

আভনিঃ আমি ভাইয়াকে ছেড়ে কোথাও যাবো না।

আবেশঃ আভু, পাপার কথা শোন।চলে যা পাপার সাথে।

আভনিঃ না। আমি কোথাও যাবো না। ভাইয়া, আমি যাবো না।

কুঞ্জন জোর করে আভনিকে গাড়িতে উঠিয়ে নিলো। আবেশ ততোক্ষণ দাঁড়ানো ছিলো যতক্ষণ পর্যন্ত গাড়িটি আড়ালে মিলিয়ে গেছে।

বারো বছর পর, 

এই বারো বছরে অনেক কিছু বদলে গেছে। আবেশ আর আভনির সম্পর্কে ধরেছে ফাটল। আভনি আবেশকে এতোটাই ঘৃণা করে যে ওর নাম পর্যন্ত শুনতে চায় না। কুঞ্জন অনেকবার বুঝিয়েছে কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আভনি ওর ঘরে বসে সেই আংটিটা নাড়াচাড়া করছে। তখন বুঝতে না পারলেও এখন ঠিকই বুঝতে পারছে ওর মায়ের মৃত্যুটা স্বাভাবিক না। কিন্তু এই বিষয়ে কাউকে কিছু বলেনি।

আভনিঃ বাংলাদেশে কখনো ফেরত যাবার ইচ্ছে ছিলো না কিন্তু কিছু পুরনো হিসেব মিলাতে না চাইতেও যেতে হবে। আসছি আমি।

/
/
/
চলবে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,

( আসসালামু আলাইকুম,, শুরু করে দিলাম,, ভাই-বোনের মিষ্টি সম্পর্ক নিয়ে একটি গল্প,,,,, মান, অভিমান নিয়ে এই গল্পটা আমি লিখেছি,, আশা করি সকলের ভালো লাগবে,,, আর প্লিজ গঠনমূলক কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না,, কেমন লাগলো)

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad